সঠিক, সঠিক কেন?

লেখক :
আধুনিক ভাষাবিদদের মতে, বিশেষ করে বাংলা একাডেমি বলছে “সঠিক” শব্দটি শুদ্ধ নয়৷ তারা বলে “স” উপসর্গের প্রয়োগ সংস্কৃত ভাষায় নেই। বাংলাতেও নেই। কিন্তু জ্যোতিভূষণ চাকী তাঁর বাংলা ভাষার ব্যাকরণ গ্রন্থের ১৫১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন, “স”উপসর্গটির প্রয়োগ সংস্কৃত ভাষাতেও আছে।

‘স’ উপসর্গটির প্রয়োগ সংস্কৃতেও আছে। চিন্তয়ধ্বং সকাতরাঃ (বনপর্ব, মহাভারত), জাতত্বরাণামণি সোৎসুকানাম্ (বুদ্ধচরিত, ৩/১৬, অশ্বঘোষ। নঞর্থক ‘অ’-এর প্রতিদ্বন্ধী উপসর্গটি থেকেই হয়তো এর উদ্‌ভব: অক্ষম-সক্ষম, অপ্রতিভ-সপ্রতিভ, অকাতর-সকাতর ইত্যাদি। এই ‘স’এর অর্থ তাই ন-এর বিপরীত অর্থাৎ সদর্থক, তা থেকে ‘অতিশয়’।

বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, জ্যোতিভূষণ চাকী, পৃষ্ঠা -১৫১।
একাডেমির পণ্ডিতদের মত হলো, সংস্কৃত ব্যাকরণে বিশেষণের সাথে ‘স’ উপসর্গ ব্যবহৃত হয় না, কেননা, সংস্কৃতে কেবল বিশেষ্যে ‘স’ উপসর্গ যুক্ত হয়ে শব্দটিকে বিশেষণে রূপান্তর করে এবং অর্থ বদলে দেয়৷ এই কারণে বৈয়াকরণগণ ঠিক শব্দে ‘স’ উপসর্গ মানতে নারাজ, কেননা, ঠিক বিশেষণ পদ৷
কিন্তু বাংলায় এই নিয়ম চলে না৷ বাংলায় বহুপদী বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত দ্বিত্ব শব্দসমূহকে একপদী বিশেষণে রূপান্তর করতে শব্দের শুরুতে ‘স’ উপসর্গ ব্যবহৃত হয়৷ যেমন—
  • ঠিক ঠিক = সঠিক৷
  • জোরে জোরে = সজোরে৷
  • টান টান = সটান৷
  • ছিদ্র ছিদ্র = সচ্ছিদ্র৷
  • ঘুম ঘুম = সঘুম৷ ইত্যাদি৷
অতএব, সঠিক শব্দটি সঠিক আছে। এই রকম আরও অনেক শব্দ আছে বাংলায়, যেগুলোকে ‘স’ উপসর্গের অপপ্রয়োগের যুক্তিতে বর্জন করা হয়েছে বাংলা একাডেমির অভিধানগুলোতে, একাডেমির পণ্ডিতগণ এই বিষয়ে পুণরায় বিবেচনা করতে পারেন।