বিশুদ্ধজ্ঞানের প্রত্যয়কে সামনে রেখে ১৯৯৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর এডুলিচার ফাউণ্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়৷
নজরুল জন্মশতবার্ষিকীর বর্ষব্যাপী অনুষ্ঠান ও ১৯৯৮ সালে ২১ ফেব্রুয়ারিতে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে ‘উন্মেষ’ নামক পুস্তিকা প্রকাশের মাধ্যমে এডুলিচারের কার্যক্রম শুরু হয়৷
এরপর গণপাঠাগার প্রতিষ্ঠা, সবার জন্য সাহিত্যকে সুলভ করার লক্ষ্যে চর্যাপদ থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত মেধাস্বত্ব উত্তীর্ণ গ্রন্থাদির অনলাইন আর্কাইভ তৈরির জন্য ‘বিশুদ্ধজ্ঞান প্রকল্প’ নামে কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়৷ এই পর্যন্ত ‘বিদ্যাসাগর রচনাবলী’ ও ‘বঙ্কিম রচনাবলী’ এই দুটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে৷ বাস্তবায়নের পথে রয়েছে রবীন্দ্র রচনাবলী, শরৎ রচনাবলী, জীবনানন্দ রচনাবলী ও নজরুল রচনাবলীর কার্যক্রম৷
এছাড়া ভাষা চর্চা বিষয়ক প্রকল্প হিসেবে এডুলিচার শব্দকোষ নামক প্রকল্প বাস্তবায়ণ করা হয়েছে৷
[siteorigin_widget class=”WP_Widget_Media_Image”][/siteorigin_widget]
ব্যাবহারিক দিক থেকে বাংলালিপি পৃথিবীর ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে। এই লিপি বাংলা ভাষা ছাড়াও সামান্য পার্থক্যসহ অসমীয়া (অহমিয়া), মণিপুরি ও সিলেটি ভাষায় ব্যবহৃত হয়। বর্ণমালা একই হওয়ায় এডুলিচার শব্দকোষে বাংলার পাশাপাশি অহমিয়া, মণিপুরী, সিলেটি এবং বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, আসাম, মিজোরাম ইত্যাদি অঞ্চলের প্রাদেশিকভাষার শব্দসমূহকে ভুক্তি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি ভুক্তির ইংরেজি অর্থ ও প্রতিশব্দ সন্নিবেশিত করা হয়েছে। নির্দেশ করা হয়েছে প্রতিটি শব্দের উৎস।
[siteorigin_widget class=”WP_Widget_Media_Image”][/siteorigin_widget]
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বিশালত্ব আকাশচুম্বী। বিদ্যা, বুদ্ধি, জ্ঞানে, মননে, পাণ্ডিত্যে তিনি ছিলেন অনন্য-অসাধারণ। বিদ্যা-শিক্ষা প্রসারে তাঁর ভূমিকা প্রবাদতুল্য। সেই সময়কার পশ্চাৎপদ হিন্দু সমাজে বিধবা বিবাহ প্রচলন, নারী শিক্ষার প্রচলন, ও বাংলা বর্ণমালা ও ভাষায় বৈপ্লবিক সংস্কার সাধন করে তিনি বাঙালি হৃদয়ে অমরত্ব লাভ করেন।
ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম ২৬ সেপ্টেম্বর ১৮২০ সালে বর্তমান পশ্চিমবাংলার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে। তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকাল ১৮২৯ থেকে ১৮৪১ সাল পর্যন্ত। বাংলা, সংস্কৃত, ইংরেজি ভাষায় তাঁর সমান দক্ষতা ও পাণ্ডিত্য ছিল অসামান্য।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৯১ সালে ঘাতক ব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে কলকাতার নিজ বাড়িতে প্রাণত্যাগ করেন। পাণ্ডিত্যে অনন্য, প্রতিভাবান সাহিত্যিক, সংস্কৃতি-ইংরেজি ভাষার সুপণ্ডিত, বিধবা বিবাহ-প্রচলন ও নারী শিক্ষার বিস্তারের জন্য বিদ্যাসাগর বাঙালির হৃদয়ে অমর হয়েই থাকবেন।
বিদ্যাসাগরের সাহিত্য চর্চা সমাজ সংস্কার ও শিক্ষা বিস্তারের উদ্দেশ্যেই৷ এই কারণে তার অনেক রচনাই আজ অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে, তবু সেকালের সমাজ ও ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে রয়েছে তাঁর প্রতিটি রচনা৷
মহান সমাজ সংস্কার ও শিক্ষানুরাগী ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সকল সাহিত্যকর্ম নিয়ে আমাদের বিদ্যাসাগর রচনাবলী প্রকল্প৷
[siteorigin_widget class=”WP_Widget_Media_Image”][/siteorigin_widget]
সাহিত্য-সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজি ভাষায় Rajmohan’s Wife নামে উপন্যাস রচনা করেন, এটি কোন ভারতীয় লেখকের লেখা প্রথম ইংরেজি উপন্যাস৷ এরপর তিনি আর ইংরেজি গ্রন্থ রচনা করেন নি৷ ১৮৫২ খ্রিষ্টাব্দে ‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকায় কবিতা প্রকাশের মাধ্যমে তাঁর সাহিত্যচর্চা শুরু। ভেবেছিলেন মাইকেল মধুসূদনের মতো কবিতা লিখে খ্যাতি অর্জন করবেন৷ কিন্তু দুটি কবিতা গ্রন্থ প্রকাশ করার পর বুঝতে পারেন কবিতায় হবে না গদ্য লিখতে হবে৷ এরপর ১৮৬২-৬৪ সালে রচনা করে ‘দূর্গেশনন্দিনী’ উপন্যাস৷ ১৮৬৫ সালের মার্চে এই উপন্যাস প্রকাশিত হয়৷
প্রকৃতপক্ষে ‘দুর্গেশনন্দিনী’ দিয়েই তার সাহিত্য জীবনের সূচনা। এই উপন্যাস দিয়েই বঙ্কিমচন্দ্র নতুন এক দিগন্ত খুলে দিলেন। বাংলা উপন্যাসের সূত্রপাত ও এপিকধর্মী বাংলা উপন্যাসের জনক হলেও তিনি সমালোচকদের কাছে আজও সমালোচিত। তাকে সাম্প্রদায়িকতার দোষে দুষ্ট করা হয়। এ জন্য অনেকে সংস্কৃত শব্দ ও যবন, ন্যাড়া, ইত্যাদি শব্দের অতি ব্যবহারকেও এককভাবে দায়ী বলে মনে করেন। অথচ এই বঙ্কিমচন্দ্রই ‘সাম্য’ রচনা করেছিলেন।
[siteorigin_widget class=”WP_Widget_Media_Image”][/siteorigin_widget]
রবীন্দ্র রচনাবলী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমগ্র রচনার সঙ্কলন। এই সঙ্কলনের প্রথম খণ্ডটি বিশ্বভারতী গ্রন্থনবিভাগ থেকে প্রকাশিত হয় ১৯৩৯ সালে। কবির জীবদ্দশায় এই গ্রন্থের সাতটি খণ্ড ও একটি অচলিত সংগ্রহ প্রকাশিত হয়। প্রতিটি খণ্ড ‘কবিতা ও গান’, ‘নাটক ও প্রহসন’, ‘গল্প ও উপন্যাস’ ও ‘প্রবন্ধ’ – এই চারটি বিভাগে বিন্যস্ত। কবির জীবদ্দশায় প্রকাশিত খণ্ডগুলিতে ভূমিকায় কবির নানা মন্তব্য লিপিবদ্ধ করে দেন। ১৯৪৮ সালের মধ্যে এই গ্রন্থাবলির মোট ছাব্বিশটি খণ্ড প্রকাশিত হয়। পরবর্তীকালে এই গ্রন্থের আরও চারটি খণ্ড প্রকাশিত হয়। ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই পনেরো খণ্ডে রবীন্দ্র রচনাবলী প্রকাশ করে। ১৯৮১ সালে নতুন পরিকল্পনায় ষোলো খণ্ডে পশ্চিমবঙ্গ সরকার রবীন্দ্র রচনাবলী প্রকাশ করে।
এডুলিচার রবীন্দ্র রচনাবলীতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সারা জীবনের লেখা বাংলা ও ইংরেজি সাহিত্যকর্ম স্থান পেয়েছে৷ এই রবীন্দ্র রচনাবলীতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা সমস্ত ছোটো গল্প, গান, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ ও রম্যরচনা আছে, যেগুলি আগেই বিশ্বভারতী ও সাহিত্য অকাদেমি (মূল ইংরেজি রচনা) থেকে পুস্তক হিসাবে বহু খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে। আমরা এই প্রকল্পে বিশ্বভারতী প্রকাশিত রবীন্দ্র-রচনাবলীর সুলভ সংস্করণের পাঠ অনুসরণ করেছি। এবং রবীন্দ্রনাথের মূল ইংরেজি রচনা সম্ভারও (সাহিত্য অকাদেমি থেকে ৪ খণ্ডে প্রকাশিত) এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করেছি। এছাড়া অন্তর্ভুক্ত হয়েছে রবীন্দ্রনাথের লেখা চিঠিপত্রও যা বিশ্বভারতীর গ্রন্থনবিভাগ থেকে প্রকাশিত হয়েছে। রবীন্দ্র সৃষ্টির সামগ্রিক পরিচয় এখানে ধরা থাকবে বাংলাভাষী এবং বাংলা ভাষা প্রেমী সকলের জন্য।