ঝিন্দের বন্দী

লেখক :

#পাঠ প্রতিক্রিয়া
#ঝিন্দের বন্দী
#শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
#আনন্দ পাব্লিশার্স
#মূল্য ২০০ টাকা।

ব্যোমকেশ বাদে শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমার একটু কমই পড়া।

ক্লাসিক লেখা ভালোবাসলেও খুব একটা ওনার লেখা আমি পড়িনি অন্যদের মতন। ব্যোমকেশ বক্সী ওনার এক অনন্য সৃষ্টি। তবে যে বইটা পড়তে পড়তে ওনার লেখা সত্যিকারের ভালোবেসে ফেলেছি সেটি হলো “ঝিন্দের বন্দী”। আলোচনায় আসা যাক।

“কলিকাতা পূর্ব-দক্ষিণ অঞ্চলে জমিদার রায়-বংশের এক প্রকান্ড বাড়ি। সে বাড়ির বর্ণনা করিয়া সময় নষ্ট করিবো না। এ বাড়ির বর্তমান দুই মালিক দুই ভাই, শিবশঙ্কর ও গৌরীশঙ্কর। এ গল্পের নায়ক ছোটভাই গৌরীশঙ্কর। ইহাদের পূর্বপুরুষ ছিলেন দেওয়ান কালীশংকর রায়। তিনি দেড়শত বৎসর পূর্বে এক রাত্রে খুন হইলেন।

একদিন এক আগন্তুক রায় বাড়িতে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। আগন্তুকের নাম সর্দার ধনঞ্জয় ক্ষেত্রি, ঝিন্দের ফৌজি-সর্দার। ঝিন্দ মধ্যভারতের এক ছোট্ট স্বাধীন রাজ্য, এ রাজ্যের উপর দিয়ে এক নদী চলিয়া গেছে নাম কিস্তা নদী। গভীর কালো তাহার জলরাশি।

লোকটি ঘরে ঢুকিয়া দ্বারের কাছে থমকিয়া দাঁড়াইয়া পড়লেন, কিছুক্ষণ কালীশঙ্করের তৈল-চিত্রটার উপর তাকাইয়া থাকিয়া চক্ষু ফিরাইয়া জিজ্ঞাসা করিল -‘এ ছবি এখানে কি করে এল’? ইহা আমার মনেও কিঞ্চিৎ রোমাঞ্চ সৃষ্টি করিয়াছিল। গল্পের শেষে আসিয়া তা কাটিয়া গিয়াছে।

শেষে সর্দারজি বলিলেন ঝিন্দ রাজ্যের হবু রাজা শংকর সিং এবং গৌরীশঙ্কর দেখিতে একই রকম।

এ’ও কি সম্ভব? কি উহাদের সম্পর্ক?

সর্দারদি দুই ভাইয়ের দিকে চাহিলেন, কহিলেন গৌরীশঙ্কর কে লইয়া শীঘ্রই উনি ঝিন্দ যাইতে যান, গৌরীশঙ্কর কে ঝিন্দের রাজা বানাইতে চান, রাজ্যের সম্মুখে বড়ই বিপদ।

কেন তার এরুপ অভিসন্ধি? কিরুপ বিপদের কথা তিনি কইলেন? রাজপুত্র শঙ্করসিং থাকিতে গৌরীশঙ্করকে কেন তিনি রাজা বানাইতে চান?”

এ গল্প আসলেই এক রহস্যে মোড়া গল্প, এ কাহিনীর উৎস বিদেশি কিন্তু মুনশিয়ানা পটভূমি এবং চরিত্রগুলোকে ভারতীয় করে তুলেছেন শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়। এ গল্প অনেকেরই হয়তো পড়া, তবে আমার তো আবার পড়তে ইচ্ছে করছে।

ও এটা না বললেই নয় একটা প্রেমের গান আছে গল্পে, গানটা এমন—”তোহে ন বিসঁরি দিন রাতি” অর্থাৎ দিবা রাত্রি তোমাকে ভুলিতে না পারি। যে গল্পের দারুন প্রেমের কথাও উল্লেখ আছে।

এবার আসি বইয়ের কোয়ালিটি নিয়ে। বইয়ের কোয়ালিটি অত্যন্ত ভালো। প্রচ্ছদ আমার ভীষণই ভালোলেগেছে। পেজ কোয়ালিটিও ভালো। তবে আমার এই বইটার ১২৯ নম্বর পৃষ্ঠা বড় গোলমেলে তার অর্ধেকই প্রিন্ট হয়নি বাকি যে অর্ধেক হয়েছে সেটিও খাপছাড়া।