এযাবৎ 1 টি গ্রন্থ সংযোজিত হয়েছে।
প্রকল্পবিদ্যাসাগর রচনাবলী
পরিচয়সম্পূর্ণ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
বিশুদ্ধজ্ঞানের প্রত্যয় নিয়ে ১৯৯৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর এডুলিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিশুদ্ধজ্ঞানের প্রত্যয়কে বাস্তবে রূপায়িত করার উদ্দেশ্যে এডুলিচার চর্যাপদ থেকে আধুনিক সাহিত্যের সর্বশেষ লেখকস্বত্ব উত্তীর্ণ গ্রন্থকে একটি অনলাইন আর্কাইভে নিয়ে আসার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এই নিমিত্তে এডুলিচার একাধিক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এডুলিচার বিদ্যাসাগর রচনাবলী প্রকল্প তেমনই একটি প্রকল্প।
বিদ্যাসাগর রচনাবলীর মাধ্যমে যুগন্ধর পুরুষ বিদ্যাসাগরের প্রতি আমরা আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করছি।
ভারতবর্ষের শিক্ষাব্যবস্থায় সমাজজীবনে বিদ্যাসাগর মহাশয়ের অকৃপণ অবদান নতুন করে উল্লেখের অপেক্ষা রাখে না। তার চাইতে বড় পণ্ডিত, বড় সমাজসংস্কারক অথবা হৃদয়বান মানুষ হয়তো এদেশে জন্ম নিয়েছেন। কিন্তু একাধারে এত গুণের সমাবেশ আর কোথাও ঘটেনি। ভারতবর্ষের ইতিহাসের সর্বাপেক্ষায় ঘটনাবহুল সময়ের মধ্য দিয়ে তার সমগ্ৰ জীৱনকাল অতিবাহিত হয়েছে। বিদ্যাসাগর ছিলেন এই নব নব যুগ-উন্মেষের সচেতন অংশীদার।
তাঁর জন্মকালে সমগ্ৰ ভারতবর্ষ ইংরেজের পদানত। শেষতম পেশোয়াও বিদেশী শাসকের কাছে আত্মসমর্পণে বাধ্য হয়েছেন বিদ্যাসাগরের জন্মের দু বছর আগে। ৭১ বছর বয়সে বিদ্যাসাগরের মৃত্যু হয়। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের বয়স তখন ছয় বছর। ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনের বীজ ততদিনে রোপিত হয়েছে। এই সুদীর্ঘ সময়ে ভারতবর্ষকে গড়ে তুলতে যারা অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন, বিদ্যাসাগর তাঁদের অন্যতম।
নিরতিশয় দরিদ্র পরিবারে পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্ৰ বিদ্যাসাগরের জন্ম। সে যুগে ইংরাজী ভাষা এবং সাহিত্য পাঠের সুযোগ ছিল সীমিত। তবু, আপনি অধ্যবসায়ে, শুধুমাত্র সংস্কৃত ভাষাতেই নয়, ইংরাজী ভাষাতেও তিনি অসাধারণ বুৎপত্তি লাভ করেছিলেন। সংস্কৃত, ইংরাজী এবং আঞ্চলিক ভাষা-এই ত্রি-ভাষার ভিত্তিতে শিক্ষানীতি নির্ধারিত হওয়া উচিত, এই ছিল বিদ্যাসাগরের অভিমত। বর্তমান যুগের পরিপ্রেক্ষিতেও এ মতবাদ যথেষ্ট আধুনিক।
গোড়া ব্ৰাহ্মণ পরিবারের সন্তান বিদ্যাসাগর সামাজিক অপপ্রথা এবং কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সাহসী সংগ্রাম চালিয়েছেন। সে যুগের পরিপ্রেক্ষিতে এই সংগ্রাম নিঃসন্দেহে বৈপ্লবিক। কঠোরতা, কোমলতা, বুদ্ধিবৃত্তি এবং হৃদয়াবেগের অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছিল তাঁর মধ্যে। অনন্যসাধারণ পণ্ডিত, শিক্ষাসংস্কারক, সমাজসংস্কারক এবং পরম করুণাময় বিদ্যাসাগরের সমগ্র জীবনসাধনা আভাসিত হয়েছে তার রচনাবলীর মধ্যে।
বাঙলা ভাষা এবং সাহিত্যের বিবিধ শাখায় তাঁর সচ্ছন্দ বিচরণ ছিল। শুধুমাত্র সাহিত্যকীর্তির নজির হিসেবেই নয়, বাঙলা ভাষা এবং সাহিত্যের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের জন্য তাঁর রচনাবলীর সঙ্গে পরিচিত হওয়া শিক্ষানুরাগী মানুষের অবশ্য কর্তব্য।
প্রকল্পবঙ্কিম রচনাবলী
পরিচয়সম্পূর্ণ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সাহিত্য-সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজি ভাষায় Rajmohan’s Wife নামে উপন্যাস রচনা করেন, এটি কোন ভারতীয় লেখকের লেখা প্রথম ইংরেজি উপন্যাস৷ এরপর তিনি আর ইংরেজি গ্রন্থ রচনা করেন নি৷ ১৮৫২ খ্রিষ্টাব্দে ‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকায় কবিতা প্রকাশের মাধ্যমে তাঁর সাহিত্যচর্চা শুরু। ভেবেছিলেন মাইকেল মধুসূদনের মতো কবিতা লিখে খ্যাতি অর্জন করবেন৷ কিন্তু দুটি কবিতা গ্রন্থ প্রকাশ করার পর বুঝতে পারেন কবিতায় হবে না গদ্য লিখতে হবে৷ এরপর ১৮৬২-৬৪ সালে রচনা করে ‘দূর্গেশনন্দিনী’ উপন্যাস৷ ১৮৬৫ সালের মার্চে এই উপন্যাস প্রকাশিত হয়৷
প্রকৃতপক্ষে ‘দুর্গেশনন্দিনী’ দিয়েই তার সাহিত্য জীবনের সূচনা। এই উপন্যাস দিয়েই বঙ্কিমচন্দ্র নতুন এক দিগন্ত খুলে দিলেন। বাংলা উপন্যাসের সূত্রপাত ও এপিকধর্মী বাংলা উপন্যাসের জনক হলেও তিনি সমালোচকদের কাছে আজও সমালোচিত। তাকে সাম্প্রদায়িকতার দোষে দুষ্ট করা হয়। এ জন্য অনেকে সংস্কৃত শব্দ ও যবন, ন্যাড়া, ইত্যাদি শব্দের অতি ব্যবহারকেও এককভাবে দায়ী বলে মনে করেন। অথচ এই বঙ্কিমচন্দ্রই ‘সাম্য’ রচনা করেছিলেন।
প্রকল্পরবীন্দ্র রচনাবলী
পরিচয়সম্পূর্ণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রবীন্দ্র রচনাবলী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমগ্র রচনার সঙ্কলন। এই সঙ্কলনের প্রথম খণ্ডটি বিশ্বভারতী গ্রন্থনবিভাগ থেকে প্রকাশিত হয় ১৯৩৯ সালে। কবির জীবদ্দশায় এই গ্রন্থের সাতটি খণ্ড ও একটি অচলিত সংগ্রহ প্রকাশিত হয়। প্রতিটি খণ্ড ‘কবিতা ও গান’, ‘নাটক ও প্রহসন’, ‘গল্প ও উপন্যাস’ ও ‘প্রবন্ধ’ – এই চারটি বিভাগে বিন্যস্ত। কবির জীবদ্দশায় প্রকাশিত খণ্ডগুলিতে ভূমিকায় কবির নানা মন্তব্য লিপিবদ্ধ করে দেন। ১৯৪৮ সালের মধ্যে এই গ্রন্থাবলির মোট ছাব্বিশটি খণ্ড প্রকাশিত হয়। পরবর্তীকালে এই গ্রন্থের আরও চারটি খণ্ড প্রকাশিত হয়। ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই পনেরো খণ্ডে রবীন্দ্র রচনাবলী প্রকাশ করে। ১৯৮১ সালে নতুন পরিকল্পনায় ষোলো খণ্ডে পশ্চিমবঙ্গ সরকার রবীন্দ্র রচনাবলী প্রকাশ করে।
এডুলিচার রবীন্দ্র রচনাবলীতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সারা জীবনের লেখা বাংলা ও ইংরেজি সাহিত্যকর্ম স্থান পেয়েছে৷ এই রবীন্দ্র রচনাবলীতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা সমস্ত ছোটো গল্প, গান, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ ও রম্যরচনা আছে, যেগুলি আগেই বিশ্বভারতী ও সাহিত্য অকাদেমি (মূল ইংরেজি রচনা) থেকে পুস্তক হিসাবে বহু খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে। আমরা এই প্রকল্পে বিশ্বভারতী প্রকাশিত রবীন্দ্র-রচনাবলীর সুলভ সংস্করণের পাঠ অনুসরণ করেছি। এবং রবীন্দ্রনাথের মূল ইংরেজি রচনা সম্ভারও (সাহিত্য অকাদেমি থেকে ৪ খণ্ডে প্রকাশিত) এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করেছি। এছাড়া অন্তর্ভুক্ত হয়েছে রবীন্দ্রনাথের লেখা চিঠিপত্রও যা বিশ্বভারতীর গ্রন্থনবিভাগ থেকে প্রকাশিত হয়েছে। রবীন্দ্র সৃষ্টির সামগ্রিক পরিচয় এখানে ধরা থাকবে বাংলাভাষী এবং বাংলা ভাষা প্রেমী সকলের জন্য।
আপনার জন্য প্রস্তাবিত