বাণী বসুর ক্ষত্তা

লেখক :
বই: ক্ষত্তা
লেখক: বাণী বসু
মহাভারত বলতেই আমাদের মাথায় আসে কুরু-পাণ্ডবের প্রচণ্ড যুদ্ধ, রাজনৈতিক কুটিলতা, অর্জুন-কর্ণের মত মহারথীদের নৈপুণ্য এবং শ্রীকৃষ্ণের প্রদত্ত বাণী যেটি আজ গীতা নামে পরিচিত। কিন্তু বাহ্যিক এসবই কি সব মহাভারতের??
এদের তো নিজস্ব সংসার ছিল, এরাও তো সাংসারিক ছিলেন, রাজসিক জটিলতা, রাজকীয় কর্মকাণ্ড ছাড়াও এদেরও একটি সাংসারিক জীবন তো ছিল, যেখানে সাধারণ সংসারের মতই থাকত আক্ষেপ, ছোট কিছু চাওয়া পাওয়া, সাংসারিক চাহিদা যা থাকে আর দশটি সাধারণ সংসারেও। কীী রকম ছিল আসলে প্রাসাদের অভ্যন্তরে তাদের সাংসারিক জীবন?
খুব ক্ষুদ্র ভাবে হলেও ফুটে উঠেছে এই বইতে, যাতে কিছুটা বেশ ভালভাবেই আন্দাজ করা যায় কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের বাইরে শুধুমাত্র সাংসারিক একটি চিত্র।
কিন্তু এই বইয়ের প্রধান চরিত্র যিনি, যাকে নিয়ে আবর্তিত হয়েছে এই বইটি। যিনি কৌরবদের হাজারো কুটিলতা, পঞ্চ-পাণ্ডবদের বীরত্ব এবং ভীষ্ম-শ্রীকৃষ্ণের বুদ্ধিমত্তা এবং স্থিরতার কাছে চাপা পড়া একটি নাম, তিনি হলেন বিদুর।
একই পিতার রক্ত বহন করা এবং প্রচণ্ড বুদ্ধিমত্তা ও রাজনৈতিক গুণাবলী, রাজ্য শাসনের গাম্ভীর্য থাকা সত্ত্বেও দাসীপুত্র হবার সুবাদে যিনি হস্তিনাপুরের সিংহাসনে আরোহনের খাতায় বাদ পড়ে যান অনেক আগেই। যাকে প্রতি পদক্ষেপেই যেতে হয়েছে হস্তিনাপুরের ভাগ্যের সাথে নিজের বুদ্ধিমত্তাকে জড়িত করে, আবেগী একজন হয়েও আবেগটাকে দমিত করে দায়িত্ব পালন করে যেতে হয়েছে হস্তিনাপুরের ভাগ্যের জন্য। পুরো মহাভারতেই ছায়ারমত যিনি ছিলেন পুরোটা সময় তাকে নিয়ে যদি কারো আগ্রহ জন্মে তবে এই বইটি অনেকটাই পাঠকের মনের তৃষ্ণা মেটাতে সক্ষম।